1.
কোনটি মুখের ক্ষত সারাতে সাহায্য করে?
ক. ভিটামিন এ
খ. ভিটামিন সি
গ. ভিটামিন ডি
ঘ. ভিটামিন ই
সঠিক উত্তর: ভিটামিন সি
ব্যাখ্যা:
ভিটামিন সি শরীরের কোলাজেন প্রোটিন তৈরিতে সাহায্য করে, যা ত্বকের কোষ পুনর্গঠন ও যেকোনো ক্ষত সারাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভিটামিন সি-এর অভাবে স্কার্ভি হয় এবং মাড়ি ও মুখে ঘা বা ক্ষত দেখা দেয়। তাই মুখের ক্ষত সারাতে ভিটামিন সি অত্যন্ত কার্যকরী।
ভিটামিন সি শরীরের কোলাজেন প্রোটিন তৈরিতে সাহায্য করে, যা ত্বকের কোষ পুনর্গঠন ও যেকোনো ক্ষত সারাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভিটামিন সি-এর অভাবে স্কার্ভি হয় এবং মাড়ি ও মুখে ঘা বা ক্ষত দেখা দেয়। তাই মুখের ক্ষত সারাতে ভিটামিন সি অত্যন্ত কার্যকরী।
2.
কোনটি প্রাণিজ আমিষ?
ক. ডাল
খ. দুধ
গ. বাদাম
ঘ. ঘি
সঠিক উত্তর: দুধ
ব্যাখ্যা:
যেসব আমিষ বা প্রোটিন প্রাণী থেকে পাওয়া যায় তাদের প্রাণিজ আমিষ বলে। দুধ গরু বা ছাগল থেকে পাওয়া যায় এবং এতে প্রচুর পরিমাণে প্রাণিজ প্রোটিন (যেমন কেসিন) রয়েছে। ডাল ও বাদাম উদ্ভিজ্জ আমিষ এবং ঘি হলো প্রাণিজ চর্বি বা স্নেহ জাতীয় খাদ্য।
যেসব আমিষ বা প্রোটিন প্রাণী থেকে পাওয়া যায় তাদের প্রাণিজ আমিষ বলে। দুধ গরু বা ছাগল থেকে পাওয়া যায় এবং এতে প্রচুর পরিমাণে প্রাণিজ প্রোটিন (যেমন কেসিন) রয়েছে। ডাল ও বাদাম উদ্ভিজ্জ আমিষ এবং ঘি হলো প্রাণিজ চর্বি বা স্নেহ জাতীয় খাদ্য।
3.
রক্তকণিকা তৈরি কার কাজ?
ক. প্রোটিন
খ. শর্করা
গ. খনিজ
ঘ. ভিটামিন
সঠিক উত্তর: প্রোটিন
ব্যাখ্যা:
লোহিত রক্তকণিকার হিমোগ্লোবিন তৈরিতে এবং রক্তকণিকা গঠনে প্রোটিন বা আমিষ প্রধান উপাদান হিসেবে কাজ করে। প্রোটিন ক্ষয়পূরণ ও দেহ গঠনের মূল ভিত্তি। শর্করা শক্তি জোগায় এবং ভিটামিন ও খনিজ রোগ প্রতিরোধ ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
লোহিত রক্তকণিকার হিমোগ্লোবিন তৈরিতে এবং রক্তকণিকা গঠনে প্রোটিন বা আমিষ প্রধান উপাদান হিসেবে কাজ করে। প্রোটিন ক্ষয়পূরণ ও দেহ গঠনের মূল ভিত্তি। শর্করা শক্তি জোগায় এবং ভিটামিন ও খনিজ রোগ প্রতিরোধ ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
4.
শান্তর পছন্দ করা ফলগুলোতে কী ভিটামিন থাকে?
ক. ভিটামিন এ
খ. ভিটামিন সি
গ. ভিটামিন বি
ঘ. ভিটামিন ডি
সঠিক উত্তর: ভিটামিন সি
ব্যাখ্যা:
উদ্দীপকে উল্লেখিত লেবু, আমলকী, কমলা, পেয়ারা, জাম্বুরা হলো টক জাতীয় বা সাইট্রাস ফল। টক জাতীয় ও তাজা ফলে প্রচুর পরিমাণে এসকরবিক এসিড বা ভিটামিন সি থাকে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত লেবু, আমলকী, কমলা, পেয়ারা, জাম্বুরা হলো টক জাতীয় বা সাইট্রাস ফল। টক জাতীয় ও তাজা ফলে প্রচুর পরিমাণে এসকরবিক এসিড বা ভিটামিন সি থাকে।
5.
উদ্দীপকে উল্লিখিত ফলগুলোতে প্রাপ্ত ভিটামিন-
i. দাঁতের মাড়ি সুস্থ রাখে
ii. ক্ষত সারায়
iii. রান্না করলে নষ্ট হয়ে যায়
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
খ. ii ও iii
গ. i ও iii
ঘ. i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: i, ii ও iii
ব্যাখ্যা:
ভিটামিন সি দাঁতের মাড়ি শক্ত ও সুস্থ রাখে এবং শরীরের যেকোনো ক্ষত সারাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এছাড়া ভিটামিন সি তাপে সংবেদনশীল হওয়ায় তা রান্না করলে বা অতিরিক্ত তাপে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে তিনটি বাক্যই সঠিক।
ভিটামিন সি দাঁতের মাড়ি শক্ত ও সুস্থ রাখে এবং শরীরের যেকোনো ক্ষত সারাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এছাড়া ভিটামিন সি তাপে সংবেদনশীল হওয়ায় তা রান্না করলে বা অতিরিক্ত তাপে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে তিনটি বাক্যই সঠিক।
6.
উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাদ্যের অন্তর্ভুক্ত-
i. ভাজা চিনাবাদাম
ii. পালংশাক
iii. ছোলার ডাল
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. i ও iii
ঘ. ii ও iii
সঠিক উত্তর: i ও iii
ব্যাখ্যা:
চিনাবাদাম স্নেহ বা তেলসমৃদ্ধ হওয়ায় এতে প্রচুর ক্যালরি থাকে এবং ছোলার ডাল ঘন শর্করা ও প্রোটিনের উৎস হওয়ায় উচ্চ ক্যালরি প্রদান করে। অন্যদিকে পালংশাক মূলত পানি, আঁশ, খনিজ লবণ ও ভিটামিনে সমৃদ্ধ, যাতে ক্যালরির পরিমাণ অত্যন্ত কম। তাই i ও iii সঠিক।
চিনাবাদাম স্নেহ বা তেলসমৃদ্ধ হওয়ায় এতে প্রচুর ক্যালরি থাকে এবং ছোলার ডাল ঘন শর্করা ও প্রোটিনের উৎস হওয়ায় উচ্চ ক্যালরি প্রদান করে। অন্যদিকে পালংশাক মূলত পানি, আঁশ, খনিজ লবণ ও ভিটামিনে সমৃদ্ধ, যাতে ক্যালরির পরিমাণ অত্যন্ত কম। তাই i ও iii সঠিক।
7.
কোন ধরনের উৎস থেকে ভিটামিন এ জাতীয় খাবারগুলো পেয়ে থাকি?
ক. প্রাণী
খ. উদ্ভিদ
গ. উভয়ই
ঘ. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: উভয়ই
ব্যাখ্যা:
ভিটামিন এ প্রাণিজ উৎস (যেমন কলিজা, ডিমের কুসুম, মাছের তেল, দুধ) এবং উদ্ভিজ্জ উৎস (যেমন গাজর, পাকা আম, মিষ্টি কুমড়া, রঙিন শাকসবজির বিটা-ক্যারোটিন) উভয় থেকেই পাওয়া যায়। তাই এটি উভয় উৎস থেকেই সংগৃহীত হয়।
ভিটামিন এ প্রাণিজ উৎস (যেমন কলিজা, ডিমের কুসুম, মাছের তেল, দুধ) এবং উদ্ভিজ্জ উৎস (যেমন গাজর, পাকা আম, মিষ্টি কুমড়া, রঙিন শাকসবজির বিটা-ক্যারোটিন) উভয় থেকেই পাওয়া যায়। তাই এটি উভয় উৎস থেকেই সংগৃহীত হয়।
8.
প্রোটিনের অপর নাম কী?
ক. শর্করা
খ. স্নেহ
গ. ভিটামিন
ঘ. আমিষ
সঠিক উত্তর: আমিষ
ব্যাখ্যা:
প্রোটিন (Protein) ইংরেজি শব্দ, যার বাংলা পারিভাষিক ও বহুল ব্যবহৃত প্রতিশব্দ হলো আমিষ । এটি অ্যামিনো এসিড দ্বারা গঠিত একটি অতিপ্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান।
প্রোটিন (Protein) ইংরেজি শব্দ, যার বাংলা পারিভাষিক ও বহুল ব্যবহৃত প্রতিশব্দ হলো আমিষ । এটি অ্যামিনো এসিড দ্বারা গঠিত একটি অতিপ্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান।
9.
খাদ্যের তাপশক্তি মাপার একক কী?
ক. ক্যালরি
খ. জুল
গ. কিলোক্যালরি
ঘ. কিলোজুল
সঠিক উত্তর: কিলোক্যালরি
ব্যাখ্যা:
পুষ্টিবিজ্ঞানে খাদ্যের তাপশক্তি বা শক্তির মান সাধারণত কিলোক্যালরি (kcal) এককে প্রকাশ ও পরিমাপ করা হয় (অনেক সময় বৃহত্তর অর্থে ১ কিলোক্যালরিকে ১ ফুড ক্যালরি বলা হয়)। আন্তর্জাতিক আদর্শ একক অনুযায়ী খাদ্যের শক্তি মাপার প্রচলিত মূল একক কিলোক্যালরি।
পুষ্টিবিজ্ঞানে খাদ্যের তাপশক্তি বা শক্তির মান সাধারণত কিলোক্যালরি (kcal) এককে প্রকাশ ও পরিমাপ করা হয় (অনেক সময় বৃহত্তর অর্থে ১ কিলোক্যালরিকে ১ ফুড ক্যালরি বলা হয়)। আন্তর্জাতিক আদর্শ একক অনুযায়ী খাদ্যের শক্তি মাপার প্রচলিত মূল একক কিলোক্যালরি।
10.
শর্করায় বিদ্যমান সেলুলোজ কোন রোগ নিরাময়ে সহায়তা করে?
ক. রাতকানা
খ. রিকেটস
গ. কোষ্ঠকাঠিন্য
ঘ. উদরাময়
সঠিক উত্তর: কোষ্ঠকাঠিন্য
ব্যাখ্যা:
সেলুলোজ হলো এক ধরনের অপাচ্য আঁশ বা খাদ্যআঁশ (Fiber)। এটি অন্ত্রের বর্জ্যের পরিমাণ বাড়ায় এবং পানি শোষণ করে মল নরম ও সহজে নিষ্কাশন করতে সাহায্য করে, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সরাসরি কাজ করে। রাতকানা হয় ভিটামিন এ-এর অভাবে এবং রিকেটস ভিটামিন ডি-এর অভাবে।
সেলুলোজ হলো এক ধরনের অপাচ্য আঁশ বা খাদ্যআঁশ (Fiber)। এটি অন্ত্রের বর্জ্যের পরিমাণ বাড়ায় এবং পানি শোষণ করে মল নরম ও সহজে নিষ্কাশন করতে সাহায্য করে, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সরাসরি কাজ করে। রাতকানা হয় ভিটামিন এ-এর অভাবে এবং রিকেটস ভিটামিন ডি-এর অভাবে।
11.
জৈব বস্তু হলো-
i. শর্করা ও প্রোটিন
ii. স্নেহ
iii. পানি
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: i ও ii
ব্যাখ্যা:
শর্করা, প্রোটিন এবং স্নেহজাতীয় পদার্থে কার্বন-হাইড্রোজেন বন্ধন থাকে, তাই এগুলো প্রধান জৈব পুষ্টি উপাদান। অন্যদিকে পানি (H2O) একটি অজৈব পদার্থ কারণ এতে কোনো জৈব কার্বন শিকল নেই। তাই সঠিক উত্তর i ও ii।
শর্করা, প্রোটিন এবং স্নেহজাতীয় পদার্থে কার্বন-হাইড্রোজেন বন্ধন থাকে, তাই এগুলো প্রধান জৈব পুষ্টি উপাদান। অন্যদিকে পানি (H2O) একটি অজৈব পদার্থ কারণ এতে কোনো জৈব কার্বন শিকল নেই। তাই সঠিক উত্তর i ও ii।
12.
নিচের কোনটি উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের উৎস?
ক. মাংস
খ. মাছ
গ. ডিম
ঘ. শিম
সঠিক উত্তর: শিম
ব্যাখ্যা:
শিম এবং শিমের বীজ উদ্ভিদ থেকে সরাসরি পাওয়া যায় এবং এতে প্রচুর প্রোটিন থাকে। মাংস, মাছ এবং ডিম প্রাণী থেকে সংগৃহীত হয় বলে এগুলো প্রাণিজ প্রোটিনের উৎস।
শিম এবং শিমের বীজ উদ্ভিদ থেকে সরাসরি পাওয়া যায় এবং এতে প্রচুর প্রোটিন থাকে। মাংস, মাছ এবং ডিম প্রাণী থেকে সংগৃহীত হয় বলে এগুলো প্রাণিজ প্রোটিনের উৎস।
13.
উদ্ভিজ্জ প্রোটিন কোনটি?
ক. মাছ
খ. মাংস
গ. দুধ
ঘ. ডাল
সঠিক উত্তর: ডাল
ব্যাখ্যা:
ডাল বিভিন্ন ধরনের ডালজাতীয় উদ্ভিদ থেকে উৎপাদিত হয় এবং এটি উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের অন্যতম প্রধান ও সহজলভ্য উৎস। মাছ, মাংস এবং দুধ সবই প্রাণী থেকে আসে।
ডাল বিভিন্ন ধরনের ডালজাতীয় উদ্ভিদ থেকে উৎপাদিত হয় এবং এটি উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের অন্যতম প্রধান ও সহজলভ্য উৎস। মাছ, মাংস এবং দুধ সবই প্রাণী থেকে আসে।
14.
শর্করা নির্ণয়ে নিচের কোন দ্রবণটি ব্যবহার করা হয়?
ক. ফেহলিং দ্রবণ
খ. আয়োডিন
গ. অ্যালকোহল
ঘ. ক্লোরাইড
সঠিক উত্তর: ফেহলিং দ্রবণ
ব্যাখ্যা:
রিডিউসিং শর্করা (যেমন গ্লুকোজ) শনাক্তকরণের জন্য পরীক্ষাগারে প্রধানত ফেহলিং দ্রবণ (Fehling s solution) অথবা বেনেডিক্ট দ্রবণ ব্যবহার করা হয়, যা শর্করার উপস্থিতিতে লালচে বা তামাটে অধঃক্ষেপ সৃষ্টি করে। স্টার্চ শনাক্ত করতে আয়োডিন ব্যবহৃত হয়।
রিডিউসিং শর্করা (যেমন গ্লুকোজ) শনাক্তকরণের জন্য পরীক্ষাগারে প্রধানত ফেহলিং দ্রবণ (Fehling s solution) অথবা বেনেডিক্ট দ্রবণ ব্যবহার করা হয়, যা শর্করার উপস্থিতিতে লালচে বা তামাটে অধঃক্ষেপ সৃষ্টি করে। স্টার্চ শনাক্ত করতে আয়োডিন ব্যবহৃত হয়।
15.
শিশুখাদ্যে কোনটির অভাব ঘটলে কোয়াশিয়রকর রোগ হয়?
ক. স্নেহ
খ. ভিটামিন
গ. আমিষ
ঘ. খনিজ লবণ
সঠিক উত্তর: আমিষ
ব্যাখ্যা:
কোয়াশিয়রকর হলো প্রোটিন বা আমিষের ঘাটতিজনিত মারাত্মক অপুষ্টির রোগ। বিশেষ করে ১ থেকে ৪ বছর বয়সী শিশুদের খাবারে পর্যাপ্ত আমিষের অভাব ঘটলে শরীর ফুলে যাওয়া, বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া ইত্যাদি লক্ষণসহ এ রোগ দেখা দেয়।
কোয়াশিয়রকর হলো প্রোটিন বা আমিষের ঘাটতিজনিত মারাত্মক অপুষ্টির রোগ। বিশেষ করে ১ থেকে ৪ বছর বয়সী শিশুদের খাবারে পর্যাপ্ত আমিষের অভাব ঘটলে শরীর ফুলে যাওয়া, বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া ইত্যাদি লক্ষণসহ এ রোগ দেখা দেয়।
16.
কোন জাতীয় খাদ্য চর্মরোগ প্রতিরোধ করে?
ক. শর্করা
খ. আমিষ
গ. স্নেহ
ঘ. খনিজ লবণ
সঠিক উত্তর: স্নেহ
ব্যাখ্যা:
স্নেহ বা চর্বি জাতীয় খাদ্যে থাকা প্রয়োজনীয় ফ্যাটি এসিড ত্বকের স্বাভাবিক তৈলাক্ত ভাব বজায় রাখে এবং ত্বক মসৃণ ও সুস্থ রেখে চর্মরোগ প্রতিরোধ করে। ফ্যাটি এসিডের অভাব হলে ত্বক খসখসে ও রুক্ষ হয়ে বিভিন্ন চর্মরোগ দেখা দেয়।
স্নেহ বা চর্বি জাতীয় খাদ্যে থাকা প্রয়োজনীয় ফ্যাটি এসিড ত্বকের স্বাভাবিক তৈলাক্ত ভাব বজায় রাখে এবং ত্বক মসৃণ ও সুস্থ রেখে চর্মরোগ প্রতিরোধ করে। ফ্যাটি এসিডের অভাব হলে ত্বক খসখসে ও রুক্ষ হয়ে বিভিন্ন চর্মরোগ দেখা দেয়।
17.
নিম্ন ক্যালরিযুক্ত খাদ্য নিচে কোনটি?
ক. চিনি
খ. মধু
গ. সয়াবিন
ঘ. টমেটো
সঠিক উত্তর: টমেটো
ব্যাখ্যা:
টমেটোতে প্রায় ৯৪-৯৫% পানি থাকে এবং এতে ক্যালরির পরিমাণ খুবই কম (১০০ গ্রামে মাত্র ১৮-২০ ক্যালরি)। অন্যদিকে চিনি ও মধু প্রায় সম্পূর্ণ ঘন শর্করা এবং সয়াবিন তেল বা বীজ স্নেহ ও প্রোটিনে ভরপুর হওয়ায় প্রচুর ক্যালরিযুক্ত।
টমেটোতে প্রায় ৯৪-৯৫% পানি থাকে এবং এতে ক্যালরির পরিমাণ খুবই কম (১০০ গ্রামে মাত্র ১৮-২০ ক্যালরি)। অন্যদিকে চিনি ও মধু প্রায় সম্পূর্ণ ঘন শর্করা এবং সয়াবিন তেল বা বীজ স্নেহ ও প্রোটিনে ভরপুর হওয়ায় প্রচুর ক্যালরিযুক্ত।
18.
উপরের কোন খাদ্যে স্নেহ উপাদান তুলনামূলকভাবে বেশি?
ক. a
খ. b
গ. c
ঘ. d
সঠিক উত্তর: c
ব্যাখ্যা:
উদ্দীপকের চিত্রে a হলো গাজর, b পাতা/শাক, c চিজ বা পনির এবং d গ্লাস ভর্তি দুধ। পনির (c) হলো দুধের ঘন চর্বি ও প্রোটিনের অংশ, যেখানে ফ্যাটের ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই c-তে স্নেহ উপাদান তুলনামূলক সবচেয়ে বেশি।
উদ্দীপকের চিত্রে a হলো গাজর, b পাতা/শাক, c চিজ বা পনির এবং d গ্লাস ভর্তি দুধ। পনির (c) হলো দুধের ঘন চর্বি ও প্রোটিনের অংশ, যেখানে ফ্যাটের ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই c-তে স্নেহ উপাদান তুলনামূলক সবচেয়ে বেশি।
19.
পরিপাকনালি পরিষ্কারে ভূমিকা রাখে-
i. a
ii. b
iii. c
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: i ও ii
ব্যাখ্যা:
উদ্দীপকের a (গাজর) এবং b (শাকসবজি) উভয়ই আঁশযুক্ত (রাফেজ) খাবার। উদ্ভিজ্জ আঁশ পরিপাকনালির নাড়াচাড়া বৃদ্ধি করে এবং খাদ্যনালি পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। পনির বা প্রাণীজ চর্বিতে (c) আঁশ থাকে না, তাই সঠিক উত্তর i ও ii।
উদ্দীপকের a (গাজর) এবং b (শাকসবজি) উভয়ই আঁশযুক্ত (রাফেজ) খাবার। উদ্ভিজ্জ আঁশ পরিপাকনালির নাড়াচাড়া বৃদ্ধি করে এবং খাদ্যনালি পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। পনির বা প্রাণীজ চর্বিতে (c) আঁশ থাকে না, তাই সঠিক উত্তর i ও ii।
20.
কোন ধরনের খাদ্য থেকে বেশি ক্যালরি পাওয়া যায়?
i. শর্করা
ii. আমিষ
iii. স্নেহ
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
খ. ii ও iii
গ. i ও iii
ঘ. i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: i, ii ও iii
ব্যাখ্যা:
প্রধান পুষ্টি উপাদানের মধ্যে শর্করা, আমিষ এবং স্নেহ—এই তিনটিই বিপাকের মাধ্যমে শরীরে বিপুল পরিমাণে ক্যালরি বা শক্তি উৎপাদন করে (১ গ্রাম ফ্যাটে ৯ ক্যালরি এবং ১ গ্রাম শর্করা ও প্রোটিনে ৪ ক্যালরি করে শক্তি থাকে)। তাই এরা সবাই ক্যালরি প্রদানকারী প্রধান খাদ্য।
প্রধান পুষ্টি উপাদানের মধ্যে শর্করা, আমিষ এবং স্নেহ—এই তিনটিই বিপাকের মাধ্যমে শরীরে বিপুল পরিমাণে ক্যালরি বা শক্তি উৎপাদন করে (১ গ্রাম ফ্যাটে ৯ ক্যালরি এবং ১ গ্রাম শর্করা ও প্রোটিনে ৪ ক্যালরি করে শক্তি থাকে)। তাই এরা সবাই ক্যালরি প্রদানকারী প্রধান খাদ্য।
21.
কোনটি তরল স্নেহ?
ক. ঘি
খ. রক্ত
গ. বাদাম তেল
ঘ. মাছের চর্বি
সঠিক উত্তর: বাদাম তেল
ব্যাখ্যা:
সাধারণ তাপমাত্রায় যেসব স্নেহ পদার্থ তরল অবস্থায় থাকে তাদের তেল বলে। বাদাম তেল উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে প্রাপ্ত তরল স্নেহ। সাধারণ তাপমাত্রায় ঘি জমে থাকে এবং মাছের চর্বিও জমাট স্নেহ। রক্ত কোনো একক খাদ্য উপাদান বা স্নেহ পদার্থ নয়।
সাধারণ তাপমাত্রায় যেসব স্নেহ পদার্থ তরল অবস্থায় থাকে তাদের তেল বলে। বাদাম তেল উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে প্রাপ্ত তরল স্নেহ। সাধারণ তাপমাত্রায় ঘি জমে থাকে এবং মাছের চর্বিও জমাট স্নেহ। রক্ত কোনো একক খাদ্য উপাদান বা স্নেহ পদার্থ নয়।
22.
কোন ভিটামিন দেহে জমা থাকে না-
ক. ভিটামিন সি ও বি কমপ্লেক্স
খ. ভিটামিন বি কমপ্লেক্স
গ. ভিটামিন ডি
ঘ. ভিটামিন কে
সঠিক উত্তর: ভিটামিন সি ও বি কমপ্লেক্স
ব্যাখ্যা:
পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলো (যেমন ভিটামিন সি এবং ভিটামিন বি কমপ্লেক্স) শরীরে বেশি জমা থাকতে পারে না; এগুলো প্রস্রাবের সাথে অতিরিক্ত অংশ বাইরে নির্গত হয়ে যায়। ফলে এদের প্রতিদিন খাদ্যের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হয়। ভিটামিন এ, ডি, ই ও কে চর্বিতে দ্রবণীয় হওয়ায় যকৃতে ও চর্বিতে জমা থাকে।
পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলো (যেমন ভিটামিন সি এবং ভিটামিন বি কমপ্লেক্স) শরীরে বেশি জমা থাকতে পারে না; এগুলো প্রস্রাবের সাথে অতিরিক্ত অংশ বাইরে নির্গত হয়ে যায়। ফলে এদের প্রতিদিন খাদ্যের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হয়। ভিটামিন এ, ডি, ই ও কে চর্বিতে দ্রবণীয় হওয়ায় যকৃতে ও চর্বিতে জমা থাকে।
23.
আয়োডিনের অভাবে নিচের কোন রোগটি হয়?
ক. গলগণ্ড
খ. মেরাসমাস
গ. রাতকানা
ঘ. কিটোসিস
সঠিক উত্তর: গলগণ্ড
ব্যাখ্যা:
আয়োডিন থাইরয়েড হরমোন তৈরির মূল উপাদান। খাবারে দীর্ঘদিন আয়োডিনের অভাব ঘটলে থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে গিয়ে গলগণ্ড (Goitre) রোগ হয়। মেরাসমাস প্রোটিন ও ক্যালরির অভাবে, রাতকানা ভিটামিন এ-এর অভাবে হয়।
আয়োডিন থাইরয়েড হরমোন তৈরির মূল উপাদান। খাবারে দীর্ঘদিন আয়োডিনের অভাব ঘটলে থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে গিয়ে গলগণ্ড (Goitre) রোগ হয়। মেরাসমাস প্রোটিন ও ক্যালরির অভাবে, রাতকানা ভিটামিন এ-এর অভাবে হয়।
24.
বরবটির বীজ কোন জাতীয় খাদ্য?
ক. শর্করা
খ. স্নেহ
গ. ভিটামিন
ঘ. আমিষ
সঠিক উত্তর: আমিষ
ব্যাখ্যা:
বরবটি একটি শিম গোত্রীয় উদ্ভিদ এবং এর বীজে প্রচুর পরিমাণে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন বা আমিষ সঞ্চিত থাকে। এটি দেহের কোষ গঠন ও ক্ষয়পূরণে সাহায্য করে।
বরবটি একটি শিম গোত্রীয় উদ্ভিদ এবং এর বীজে প্রচুর পরিমাণে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন বা আমিষ সঞ্চিত থাকে। এটি দেহের কোষ গঠন ও ক্ষয়পূরণে সাহায্য করে।
25.
সুষম খাদ্যের কাজ কী?
i. স্বাভাবিক বৃদ্ধি
ii. কর্মশক্তি উৎপাদন
iii. শরীরকে রোগমুক্ত রাখা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
খ. ii ও iii
গ. i ও iii
ঘ. i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: i, ii ও iii
ব্যাখ্যা:
সুষম খাদ্য শরীরের প্রয়োজনীয় ছয়টি উপাদান সঠিক অনুপাতে সরবরাহ করে। এটি দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটায়, বিপাকীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কর্মশক্তি জোগায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে শরীরকে রোগমুক্ত রাখে। ফলে তিনটি কাজই সঠিক।
সুষম খাদ্য শরীরের প্রয়োজনীয় ছয়টি উপাদান সঠিক অনুপাতে সরবরাহ করে। এটি দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটায়, বিপাকীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কর্মশক্তি জোগায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে শরীরকে রোগমুক্ত রাখে। ফলে তিনটি কাজই সঠিক।
26.
কোনটি জমাট স্নেহ?
ক. সয়াবিন তেল
খ. সরিষার তেল
গ. বাদাম তেল
ঘ. ঘি
সঠিক উত্তর: ঘি
ব্যাখ্যা:
সাধারণ কক্ষ তাপমাত্রায় যেসব স্নেহ বা চর্বি কঠিন বা অর্ধ-কঠিন অবস্থায় জমাট বেঁধে থাকে তাদের জমাট স্নেহ বলে। ঘি প্রাণী থেকে প্রাপ্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট হওয়ায় এটি স্বাভাবিক তাপমাত্রায় জমাট থাকে। সয়াবিন, সরিষা ও বাদাম তেল তরল স্নেহ।
সাধারণ কক্ষ তাপমাত্রায় যেসব স্নেহ বা চর্বি কঠিন বা অর্ধ-কঠিন অবস্থায় জমাট বেঁধে থাকে তাদের জমাট স্নেহ বলে। ঘি প্রাণী থেকে প্রাপ্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট হওয়ায় এটি স্বাভাবিক তাপমাত্রায় জমাট থাকে। সয়াবিন, সরিষা ও বাদাম তেল তরল স্নেহ।
27.
উদ্দীপকে উল্লিখিত খাদ্যটি দেহে-
i. কর্মশক্তি বাড়ায়
ii. তাপশক্তি ধরে রাখে
iii. প্রোটিন ক্ষয়রোধ করে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: i, ii ও iii
ব্যাখ্যা:
উদ্দীপকে দ্বিতীয় ধরনের খাদ্য হিসেবে তরল স্নেহের (তেল) কথা বলা হয়েছে। স্নেহজাতীয় খাদ্য সবচেয়ে বেশি কর্মশক্তি জোগায়, ত্বকের নিচে চর্বির স্তর হিসেবে দেহের তাপ ধরে রাখে এবং প্রোটিনকে শক্তিতে রূপান্তর হতে না দিয়ে এর প্রধান কাজ করতে সাহায্য করে (প্রোটিন স্পেয়ারিং অ্যাকশন)। সুতরাং তিনটি বাক্যই সঠিক।
উদ্দীপকে দ্বিতীয় ধরনের খাদ্য হিসেবে তরল স্নেহের (তেল) কথা বলা হয়েছে। স্নেহজাতীয় খাদ্য সবচেয়ে বেশি কর্মশক্তি জোগায়, ত্বকের নিচে চর্বির স্তর হিসেবে দেহের তাপ ধরে রাখে এবং প্রোটিনকে শক্তিতে রূপান্তর হতে না দিয়ে এর প্রধান কাজ করতে সাহায্য করে (প্রোটিন স্পেয়ারিং অ্যাকশন)। সুতরাং তিনটি বাক্যই সঠিক।
28.
কিটোসিস রোগ হয় কোনটির অভাবে?
ক. আমিষের
খ. শর্করার
গ. ভিটামিনের
ঘ. খনিজ লবণের
সঠিক উত্তর: শর্করার
ব্যাখ্যা:
শরীরে শর্করার অভাব হলে দেহ শক্তির জন্য অতিরিক্ত চর্বি বা ফ্যাট ভাঙতে শুরু করে। ফ্যাটের অসম্পূর্ণ জারণের ফলে রক্ত ও মূত্রে কিটোন বডি বেড়ে গিয়ে কিটোসিস (Ketosis) নামক অবস্থার সৃষ্টি হয়। সুতরাং শর্করার অভাবে এটি ঘটে।
শরীরে শর্করার অভাব হলে দেহ শক্তির জন্য অতিরিক্ত চর্বি বা ফ্যাট ভাঙতে শুরু করে। ফ্যাটের অসম্পূর্ণ জারণের ফলে রক্ত ও মূত্রে কিটোন বডি বেড়ে গিয়ে কিটোসিস (Ketosis) নামক অবস্থার সৃষ্টি হয়। সুতরাং শর্করার অভাবে এটি ঘটে।
29.
ভিটামিন ডি পাওয়া যায়-
i. মাছের তেল
ii. সূর্যের আলোতে
iii. ডিমে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: i, ii ও iii
ব্যাখ্যা:
ভিটামিন ডি মাছের তেলে ও ডিমের কুসুমে সরাসরি প্রাকৃতিকভাবে বিদ্যমান থাকে। তাছাড়া সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির উপস্থিতিতে মানুষের ত্বকে ভিটামিন ডি সংশ্লেষিত হয়। তাই তিনটি উৎসই সঠিক।
ভিটামিন ডি মাছের তেলে ও ডিমের কুসুমে সরাসরি প্রাকৃতিকভাবে বিদ্যমান থাকে। তাছাড়া সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির উপস্থিতিতে মানুষের ত্বকে ভিটামিন ডি সংশ্লেষিত হয়। তাই তিনটি উৎসই সঠিক।
30.
দেহে রোগ প্রতিরোধকারী অ্যান্টিবডি তৈরি করে কোন খাবার?
ক. খনিজ লবণ
খ. শর্করা
গ. আমিষ
ঘ. স্নেহ
সঠিক উত্তর: আমিষ
ব্যাখ্যা:
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রধান অস্ত্র হলো অ্যান্টিবডি (ইমিউনোগ্লোবুলিন), যা মূলত বিশেষ ধরনের প্রোটিন বা আমিষ দিয়ে গঠিত। তাই পর্যাপ্ত আমিষ গ্রহণ করলে দেহ প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পারে।
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রধান অস্ত্র হলো অ্যান্টিবডি (ইমিউনোগ্লোবুলিন), যা মূলত বিশেষ ধরনের প্রোটিন বা আমিষ দিয়ে গঠিত। তাই পর্যাপ্ত আমিষ গ্রহণ করলে দেহ প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পারে।
অফলাইনে পড়ার জন্য পিডিএফটি সংগ্রহ করুন
PDF ডাউনলোড করুনঅ্যাপ ইনস্টল করুন
স্মুথ এক্সপেরিয়েন্স এবং অফলাইন সুবিধার জন্য আমাদের Job Exam অ্যাপটি ইনস্টল করুন।