স্পেশাল মডেল টেস্ট ১

1. বাংলা ভাষার অভিধান প্রথম কে রচনা করেন?
ক. ফাদার ম্যানুয়েল
খ. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
গ. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ঘ. উইলিয়াম কেরি
সঠিক উত্তর: ফাদার ম্যানুয়েল
ব্যাখ্যা:
বাংলা ভাষার প্রথম অভিধান রচনার চেষ্টা করেন পর্তুগিজ পাদ্রি ম্যানুয়েল দ্য আসসুম্পসাঁউ। ১৭৪৩ সালে পর্তুগালের লিসবন থেকে পর্তুগিজ-বাংলা ভাষার এই অভিধানটি প্রকাশিত হয়। ঐতিহাসিক এই বিষয়টি মনে রাখা জরুরি।
2. বচন ও লিঙ্গ ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?
ক. ভাষাতত্ত্ব
খ. ধ্বনিতত্ত্ব
গ. রূপতত্ত্ব
ঘ. বাক্যতত্ত্ব
সঠিক উত্তর: রূপতত্ত্ব
ব্যাখ্যা:
বাংলা ব্যাকরণের রূপতত্ত্ব বা শব্দতত্ত্বে শব্দ গঠন, শব্দের রূপ, বচন, লিঙ্গ, কারক, সমাস, বিভক্তি ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয়। সহজে মনে রাখার উপায় হলো, যেসব বিষয় শব্দের রূপ বা গঠন পরিবর্তন করে (যেমন বচনের কারণে শব্দের শেষে রা/গুলি যুক্ত হওয়া), সেগুলো রূপতত্ত্বে আলোচিত হয়।
3. Lexicography-এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ --
ক. ভাষাতত্ত্ব
খ. অভিধানতত্ত্ব
গ. ধ্বনিতত্ত্ব
ঘ. বাক্যতত্ত্ব
সঠিক উত্তর: অভিধানতত্ত্ব
ব্যাখ্যা:
Lexicography শব্দের অর্থ হলো অভিধান সংকলন বা অভিধান রচনার বিদ্যা। তাই এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ হলো অভিধানতত্ত্ব। Lexicon মানে হলো শব্দকোষ বা অভিধান, এখান থেকে সহজে মনে রাখতে পারেন যে এটি অভিধানতত্ত্ব।
4. ষড়ঋতু শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ
ক. ষড় + ঋতু
খ. ষয় + ঋতু
গ. ষট + ঋতু
ঘ. যড় + ঋতু
সঠিক উত্তর: ষট + ঋতু
ব্যাখ্যা:
ষড়ঋতু শব্দটি ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম অনুযায়ী গঠিত। ষট + ঋতু = ষড়ঋতু। নিয়মানুযায়ী, প্রথম শব্দের শেষে ট্ থাকলে এবং পরের শব্দের শুরুতে স্বরধ্বনি থাকলে ট্ স্থানে ড় হয়। এই নিয়মটি ভালোভাবে মনে রাখলে সন্ধিবিচ্ছেদ ভুল হবে না।
5. চক্ষুদান করা বাগধারার অর্থ কি?
ক. সেবা করা
খ. অপরাধ করা
গ. চুরি করা
ঘ. নষ্ট করা
সঠিক উত্তর: চুরি করা
ব্যাখ্যা:
চক্ষুদান করা একটি ব্যঙ্গাত্মক বাগধারা, যার অর্থ হলো চুরি করা। উদাহরণস্বরূপ: ভিড়ের মধ্যে পকেটমারটি আমার মানিব্যাগটি চক্ষুদান করেছে (অর্থাৎ চুরি করেছে)। আক্ষরিক অর্থে চোখ দান করা বোঝায়, কিন্তু বাগধারায় এটি চুরি করার ব্যঙ্গার্থে ব্যবহৃত হয়।
6. ভবিষ্যৎ না ভেবে কাজ করে যে- এক কথায় হবে --
ক. অবিসংবাদী
খ. নির্ভাবনা
গ. অপরিণামদর্শী
ঘ. অবিমৃষ্যকারী
সঠিক উত্তর: অবিমৃষ্যকারী
ব্যাখ্যা:
যে ব্যক্তি কাজ করার আগে ভবিষ্যৎ পরিণতি নিয়ে চিন্তা করে না, তাকে এক কথায় অবিমৃষ্যকারী বলে। আর যে পরিণামের কথা ভাবে না তাকে অপরিণামদর্শী বলা যায়, তবে সঠিক ও প্রচলিত এককথায় প্রকাশ হলো অবিমৃষ্যকারী।
7. কোন বানানটি শুদ্ধ?
ক. অত্যাধিক
খ. আদ্যক্ষর
গ. আবিস্কার
ঘ. অদ্যাপি
সঠিক উত্তর: অদ্যাপি
ব্যাখ্যা:
এখানে সঠিক বানান হলো অদ্যাপি (অদ্য + অপি = অদ্যাপি, অর্থ আজও)। বাকি বানানগুলো ভুল; সঠিক রূপগুলো হবে: অত্যধিক, আদ্যক্ষর এবং আবিষ্কার।
8. পদ্মের সমার্থক শব্দ?
ক. মনসিক
খ. অম্বুন
গ. অরবিন্দ
ঘ. জলধর
সঠিক উত্তর: অরবিন্দ
ব্যাখ্যা:
অরবিন্দ হলো পদ্ম ফুলের একটি সমার্থক শব্দ। পদ্মের আরও কিছু পরিচিত সমার্থক শব্দ হলো: কমল, শতদল, উৎপল, নলিনী, সরোজ ইত্যাদি। জলধর মানে হলো মেঘ, তাই এটি হবে না।
9. তৎসম শব্দের উদাহরণ?
ক. ব্যঞ্জন
খ. দোকানদার
গ. মানব
ঘ. ব্যাঙাচি
সঠিক উত্তর: ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা:
যেসব শব্দ সংস্কৃত ভাষা থেকে কোনো রকম পরিবর্তন ছাড়াই সরাসরি বাংলা ভাষায় এসেছে, তাদের তৎসম শব্দ বলে। এখানে ব্যঞ্জন একটি তৎসম শব্দ। দোকানদার ফারসি শব্দ, আর ব্যাঙাচি দেশি শব্দ।
10. কোনটির লিঙ্গান্তর হয় না?
ক. বেয়াই
খ. সাহেব
গ. কবিরাজ
ঘ. রজক
সঠিক উত্তর: কবিরাজ
ব্যাখ্যা:
বাংলা ব্যাকরণে কিছু শব্দ আছে যেগুলো সবসময় পুরুষবাচক হয়, এদের কোনো স্ত্রীবাচক রূপ বা লিঙ্গান্তর হয় না। যেমন: কবিরাজ, ঢাকী, কৃতদার ইত্যাদি। সাহেব-এর স্ত্রীলিঙ্গ মেম, বেয়াই-এর বেয়াইন, রজক-এর রজকিনী হতে পারে, কিন্তু কবিরাজ-এর কোনো স্ত্রীবাচক শব্দ নেই।
11. দর্শনমাত্র কোন সমাসের উদাহরণ?
ক. প্রাদি সমাস
খ. নিত্য সমাস
গ. অব্যয়ীভাব সমাস
ঘ. দ্বিগু সমাস
সঠিক উত্তর: নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো সবসময় সমাসবদ্ধ অবস্থাতেই থাকে, অর্থাৎ এদের ব্যাসবাক্যের প্রয়োজন হয় না, তাকে নিত্য সমাস বলে। যেমন: কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র। এখানে মাত্র শব্দ থাকলে সাধারণত নিত্য সমাস হয়, এটি মনে রাখার একটি সহজ কৌশল।

অফলাইনে পড়ার জন্য পিডিএফটি সংগ্রহ করুন

PDF ডাউনলোড করুন
অ্যাপ ইনস্টল করুন
স্মুথ এক্সপেরিয়েন্স এবং অফলাইন সুবিধার জন্য আমাদের Job Exam অ্যাপটি ইনস্টল করুন।